হেমন্তের চিঠি

শাব্বির আহাম্মেদ রাকিব

শিশিরভেজা শিউলির হাসি, আশ্বিন লেখে বিদায়ের গান,
হেমন্তের নীরব পদধ্বনি জাগায় মনের অভিমান।
ছাতিমের মিষ্টি সুবাসে থমকে দাঁড়ায় নগর,
একলা হৃদয় গুনগুনিয়ে গায় বিষণ্ণতার স্বর।
সকালের রোদ্দুরে আজ রুক্ষতার মৃদু ছোঁয়া,
বাতাসের শীতল পরশে কেঁপে ওঠে মনের হাওয়া।
প্রকৃতি আপন মনে আঁকে পরিবর্তনের ছবি,
আমার বুকে জমে থাকে কত না-বলা কবিতা।
ধানের শীষে দোলে যেন সোনালি স্বপ্নের ঢেউ,
ঘাসের ডগায় শিশির কাঁপে—তোমার মতো কেউ।
ঝরা পাতার মর্মর ধ্বনি বলে যায় বারবার,
ঋতুরাও বদলে যায়, বদলায় না অপেক্ষার ভার।
ছাতিমের শুভ্র পাপড়িতে সৌন্দর্য ঝরে নীরবে,
তবু কেন ম্লান সবুজ আক্ষেপ জাগায় অন্তরে?
চারদিকে এত আলো, তবু আমার চোখে আঁধার,
তুমি নেই বলেই বুঝি সৌন্দর্যও লাগে ভার।
তুমি তো এলে না এই হাওয়া বদলের দিনে,
এলে না শিউলির গন্ধ মেখে কোনো নীরব ক্ষণে।
তোমার নামে জমিয়ে রাখা কত না-বলা কথা,
জানালার পাশে বসে আজও গুনে ফেরে ব্যর্থতা।
হেমন্ত আসে, পাতা ঝরে, ছোট হয় দিনের আলো,
অপেক্ষার দীর্ঘ প্রহর তবু ফুরায় না কোনো কালো।
ক্লান্ত আঁখি দিগন্ত পানে চেয়ে থাকে নিরালায়,
যদি তুমি ফিরে আসো কোনো কুয়াশাভেজা ভোরের মায়ায়।
শীতের চাদর নামবে শেষে নগরজুড়ে ধীরে,
শিউলি-ছাতিম হারিয়ে যাবে স্মৃতির পাতার নীড়ে।
তোমার না-আসার গল্পটুকু রয়ে যাবে হৃদয়জুড়ে—
আমি শুধু হেমন্ত হবো, তোমার অপেক্ষায় ঝরে।



নবীনতর পূর্বতন