সাহিত্যনামা পাঠচক্র

১. অর্থনীতি ও সাহিত্য

২৮ আগস্ট, ২০২৬
সাহিত্যনামা পাঠচক্র (সম্পাদকীয়)

সাহিত্যকে আমরা সাধারণত মানুষের অনুভূতি, স্বপ্ন, প্রেম, বিরহ, আনন্দ, বেদনা ও জীবনের নানা অভিজ্ঞতার শিল্পরূপ হিসেবে দেখি। আর অর্থনীতিকে দেখি টাকা, বাজার, আয়, ব্যয়, উৎপাদন, শ্রম ও সম্পদের হিসাব হিসেবে। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, এই দুটি বিষয় একে অন্যের থেকে অনেক দূরে। কিন্তু একটু গভীরভাবে তাকালে বোঝা যায়, অর্থনীতি ও সাহিত্য আসলে মানুষের জীবনের একই বাস্তবতার দুই ভিন্ন পাঠ।

মানুষ যে সমাজে বাস করে, সেখানে তার জীবনযাপন অনেকটাই নির্ভর করে অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর। সে কী খাবে, কোথায় থাকবে, কীভাবে শিক্ষা নেবে, কাকে বিয়ে করবে, কোন কাজ করবে, এমনকি তার স্বপ্নের পরিধিও অনেক সময় নির্ধারিত হয় অর্থনৈতিক বাস্তবতা দিয়ে। সাহিত্য সেই মানুষের জীবনকেই ধারণ করে। ফলে সাহিত্যের পাতায় অর্থনীতি কখনো সরাসরি আসে, কখনো আসে মানুষের সম্পর্ক, সংকট, আকাঙ্ক্ষা ও হতাশার ভেতর দিয়ে।

একজন কৃষকের জমি হারানোর গল্প যেমন অর্থনৈতিক গল্প, তেমনি সেই জমি হারানোর কারণে তার পরিবারে যে অশান্তি তৈরি হয়, সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে ভয় জন্ম নেয়, তারও সাহিত্যিক মূল্য আছে। অর্থনীতি মানুষের পকেটকে যেমন প্রভাবিত করে, তেমনি তার মনকেও প্রভাবিত করে। আর সাহিত্য সেই মনের পরিবর্তনকে ভাষা দেয়।

সাহিত্যে অর্থনীতির উপস্থিতি

বাংলা সাহিত্যের দিকে তাকালে অর্থনৈতিক বাস্তবতার অসংখ্য ছবি দেখা যায়। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের গল্প ও উপন্যাসে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন, সামাজিক বৈষম্য, সম্পত্তি ও জীবিকার সংকট নানা ভাবে এসেছে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনায় গ্রামীণ জীবন ও দারিদ্র্যের যে ছবি পাওয়া যায়, তা কেবল প্রকৃতির সৌন্দর্যের বর্ণনা নয়। সেখানে অভাব, অনিশ্চয়তা ও জীবিকার সংগ্রামও রয়েছে।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্য অর্থনৈতিক বাস্তবতার আরও গভীর ছবি তুলে ধরে। ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাসের কুবেরকে মনে করা যেতে পারে। কুবের একজন দরিদ্র জেলে। তার জীবন নদীর ওপর নির্ভরশীল। মাছ পাওয়া না পাওয়া তার পরিবারের খাবার নির্ধারণ করে। তার প্রেম, পরিবার, স্বপ্ন, সিদ্ধান্ত সবকিছুর পেছনে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কাজ করে। ফলে কুবেরকে শুধু একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখলে তার চরিত্রকে পুরোপুরি বোঝা যায় না। তাকে বুঝতে হলে তার শ্রেণি ও অর্থনৈতিক অবস্থাকেও বুঝতে হয়।

এখানেই সাহিত্য ও অর্থনীতির সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একজন মানুষের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত অনেক সময় তার ব্যক্তিগত ইচ্ছার ফল নয়। তার চারপাশের অর্থনৈতিক কাঠামো তাকে নির্দিষ্ট পথে হাঁটতে বাধ্য করে।

অর্থনীতি কি মানুষের স্বপ্নও নিয়ন্ত্রণ করে

আমরা প্রায়ই বলি, মানুষ তার নিজের ভাগ্য নিজেই তৈরি করে। কথাটি অনুপ্রেরণাদায়ক হলেও পুরোপুরি সত্য নয়। কারণ মানুষের সুযোগ অনেকটাই নির্ভর করে তার অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর।

একটি ছোট গল্প ভাবা যাক। গ্রামের একটি ছেলে শহরে এসে বড় লেখক হওয়ার স্বপ্ন দেখে। তার হাতে প্রতিভা আছে, পড়ার আগ্রহ আছে। কিন্তু পরিবারের অভাবের কারণে তাকে দিনে দশ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। রাতে ক্লান্ত শরীরে সে লিখতে বসে। অন্যদিকে একই বয়সের আরেকজন তরুণের হাতে অর্থ আছে, নিজের ঘর আছে, বই পড়ার সময় আছে। দুজনের প্রতিভা হয়তো কাছাকাছি, কিন্তু তাদের সুযোগ এক নয়।

এই ছোট গল্পের মধ্যে অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য লুকিয়ে আছে। সম্পদ শুধু জীবনযাত্রার মান নির্ধারণ করে না, মানুষের সময় ও সুযোগও নির্ধারণ করে। সাহিত্য এই অসম সুযোগকে দৃশ্যমান করে তুলতে পারে।

মার্কসবাদী সাহিত্যতত্ত্ব

অর্থনীতি ও সাহিত্যের সম্পর্ক নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত তত্ত্বগুলোর একটি হলো মার্কসবাদী সাহিত্যতত্ত্ব। কার্ল মার্কস সমাজকে বোঝার ক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যবস্থা, শ্রেণি সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তার চিন্তার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে সাহিত্য বিশ্লেষণের একটি শক্তিশালী ধারা গড়ে ওঠে।

মার্কসবাদী দৃষ্টিতে সাহিত্যকে শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ হিসেবে দেখা হয় না। সাহিত্য যে সমাজে তৈরি হয়, সেই সমাজের শ্রেণি সম্পর্ক, অর্থনৈতিক কাঠামো এবং ক্ষমতার সম্পর্কও সাহিত্যে প্রতিফলিত হতে পারে।

ধরা যাক, একটি উপন্যাসে একজন জমিদার এবং একজন কৃষকের সম্পর্ক দেখানো হলো। তারা ব্যক্তিগতভাবে ভালো মানুষ বা খারাপ মানুষ হতে পারেন। কিন্তু তাদের সম্পর্কের মধ্যে যে ক্ষমতার পার্থক্য রয়েছে, সেটি ব্যক্তিগত চরিত্রের বাইরেও একটি অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। কৃষক জমির ওপর নির্ভরশীল, জমিদারের হাতে সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ। ফলে তাদের সম্পর্কের মধ্যে অর্থনৈতিক ক্ষমতাও কাজ করছে।

মার্কসবাদী সাহিত্য বিশ্লেষণ এই ক্ষমতার সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়। কে সম্পদের মালিক, কে শ্রম দেয়, কে লাভ পায় এবং কে বঞ্চিত হয়, এসব প্রশ্ন সাহিত্য পাঠের অংশ হয়ে ওঠে।

অর্থনীতির প্রভাব কি শুধু দরিদ্রদের ওপর

অনেক সময় মনে করা হয়, অর্থনীতি মানেই দারিদ্র্য। আসলে তা নয়। অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে প্রভাবিত করে।

একজন ধনী মানুষের জীবনেও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কাজ করে। তার সম্পদ তাকে কিছু বিশেষ সুযোগ দেয়। ভালো শিক্ষা, নিরাপদ বাসস্থান, চিকিৎসা, ভ্রমণ, সামাজিক মর্যাদা এবং সাংস্কৃতিক পুঁজি তার জীবনকে অন্যভাবে গড়ে তোলে।

আবার মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনেও অর্থনৈতিক চাপ প্রবল। চাকরির নিরাপত্তা, বাড়িভাড়া, সন্তানের শিক্ষা, চিকিৎসা, ঋণ এবং ভবিষ্যতের সঞ্চয় তার মানসিক জগৎকে প্রভাবিত করে।

বাংলা সাহিত্যের মধ্যবিত্ত চরিত্রগুলোর দিকে তাকালে আমরা প্রায়ই দেখি, তাদের প্রেমের মধ্যেও অর্থনৈতিক হিসাব ঢুকে পড়ে। বিয়ের ক্ষেত্রে চাকরি, আয়, সামাজিক মর্যাদা, বাড়ি এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে প্রেম শুধু আবেগের বিষয় থাকে না। তার সঙ্গে অর্থনৈতিক বাস্তবতাও জড়িয়ে যায়।

নারীর জীবন ও অর্থনীতি

সাহিত্য ও অর্থনীতির সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হলো নারীজীবন। অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন না হলে একজন নারীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতাও অনেক সময় সীমিত হয়ে পড়ে।

একজন নারী যদি নিজের আয় না করেন এবং পুরোপুরি পরিবারের ওপর নির্ভরশীল হন, তাহলে নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। সে অন্যায় সম্পর্ক সহ্য করতে বাধ্য হতে পারে, পছন্দের কাজ ছেড়ে দিতে পারে অথবা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিতে পারে।

নারীর শ্রমের একটি বড় অংশ আবার অর্থনীতির প্রচলিত হিসাবের বাইরে থেকে যায়। ঘরের কাজ, সন্তান পালন, বয়স্ক মানুষের যত্ন, রান্না ও পরিবারের দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা অর্থনৈতিক মূল্যে সরাসরি গণনা করা হয় না। অথচ এসব কাজ ছাড়া একটি পরিবার ও সমাজ চলতে পারে না।

সাহিত্য এই অদৃশ্য শ্রমকে দৃশ্যমান করার শক্তি রাখে। একজন গৃহিণীর সারাদিনের জীবন নিয়ে লেখা একটি গল্প আমাদের বুঝিয়ে দিতে পারে, অর্থনীতির হিসাবের বাইরে থাকা শ্রমও মানুষের জীবনে কত বড় ভূমিকা রাখে।

বাজার যখন গল্পের চরিত্র

আধুনিক সাহিত্যে বাজার নিজেই এক ধরনের চরিত্র হয়ে উঠেছে। শপিং মল, বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড, ঋণ, কিস্তি, অনলাইন কেনাকাটা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের চাহিদাকে নতুনভাবে তৈরি করছে।

আগে মানুষ প্রয়োজন অনুযায়ী অনেক কিছু কিনত। এখন অনেক সময় বাজার আমাদের বোঝায়, কী প্রয়োজন। বিজ্ঞাপন আমাদের বলে, কোন পোশাক পরলে আমরা আধুনিক, কোন ফোন ব্যবহার করলে আমরা সফল, কোন গাড়ি চালালে আমরা মর্যাদাবান।

এই ভোগের সংস্কৃতি সাহিত্যেও প্রবেশ করেছে। একজন তরুণের প্রেম, আত্মপরিচয় বা সামাজিক অবস্থান অনেক সময় তার পোশাক, ফোন বা জীবনযাপনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। ফলে অর্থনীতি শুধু বাজারে নেই। তা মানুষের আত্মপরিচয়ের মধ্যেও ঢুকে পড়েছে।

অর্থনীতি ও সাহিত্য একে অন্যকে কীভাবে প্রভাবিত করে

অর্থনীতি যেমন সাহিত্যকে প্রভাবিত করে, সাহিত্যও অর্থনৈতিক চিন্তাকে প্রভাবিত করতে পারে। একটি উপন্যাস বা গল্প কোনো অর্থনৈতিক তত্ত্বের বই নয়, কিন্তু তা একজন পাঠককে অর্থনৈতিক বৈষম্য অনুভব করাতে পারে।

একজন অর্থনীতিবিদ হয়তো পরিসংখ্যান দিয়ে দেখাবেন, একটি দেশে কত শতাংশ মানুষ দরিদ্র। একজন সাহিত্যিক হয়তো একজন দরিদ্র মানুষের জীবন দেখাবেন। সেই মানুষের ক্ষুধা, লজ্জা, স্বপ্ন, অপমান এবং বেঁচে থাকার সংগ্রাম পাঠক অনুভব করতে পারবেন।

পরিসংখ্যান আমাদের জানায় কতজন মানুষ সমস্যায় আছে। সাহিত্য আমাদের অনুভব করায় একজন মানুষ কীভাবে সেই সমস্যার মধ্যে বেঁচে থাকে।

এই কারণে সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও সাহিত্যের ভূমিকা রয়েছে। মানুষের প্রতি মানুষের সহানুভূতি তৈরি করতে সাহিত্য অনেক সময় অর্থনৈতিক প্রতিবেদন থেকেও বেশি কার্যকর হয়ে ওঠে।

অর্থনীতির সাহিত্যও আছে

শুধু সাহিত্যে অর্থনীতি থাকে না। অর্থনীতি নিয়েও সাহিত্য তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব, শ্রমিকের জীবন, কৃষকের ঋণ, অভিবাসন, শহুরে দারিদ্র্য, সম্পদের বৈষম্য এবং মধ্যবিত্তের অনিশ্চয়তা নিয়ে বিশ্বের নানা ভাষায় অসংখ্য সাহিত্যকর্ম লেখা হয়েছে।

চার্লস ডিকেন্সের উপন্যাসে শিল্পায়নের যুগের দারিদ্র্য ও সামাজিক বৈষম্যের ছবি পাওয়া যায়। জন স্টেইনবেকের ‘দ্য গ্রেপস অব র‍্যাথ’ অর্থনৈতিক সংকটের সময় মানুষের বাস্তুচ্যুতি ও সংগ্রামকে তুলে ধরে। এইসব রচনায় অর্থনীতি কোনো আলাদা বিষয় নয়। মানুষের জীবনই সেখানে অর্থনীতির সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

বর্তমান পৃথিবীতে অর্থনীতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অনলাইন কাজ, গিগ অর্থনীতি, বৈশ্বিক বাজার এবং বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয় মানুষের জীবনকে নতুনভাবে তৈরি করছে।

একজন তরুণ হয়তো নিজের শহরে চাকরি না পেয়ে অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। কেউ অনলাইনে কাজ করে নিজের ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্ত হচ্ছে। কেউ আবার চাকরি হারিয়ে নতুন দক্ষতা শেখার চেষ্টা করছে। এসব পরিবর্তন শুধু অর্থনীতির বিষয় নয়। এগুলো মানুষের প্রেম, পরিবার, বন্ধুত্ব, একাকিত্ব, স্বপ্ন এবং পরিচয়কেও বদলে দিচ্ছে।

আগামী দিনের সাহিত্য তাই অর্থনৈতিক পরিবর্তনকে এড়িয়ে যেতে পারবে না। বরং নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতা থেকেই নতুন চরিত্র, নতুন দ্বন্দ্ব এবং নতুন গল্প জন্ম নেবে।

অর্থনীতি ও সাহিত্যকে আলাদা দুটি জগৎ ভাবার সুযোগ নেই। অর্থনীতি মানুষের জীবনের বস্তুগত ভিত্তি তৈরি করে, আর সাহিত্য সেই জীবনের অনুভূতি, অভিজ্ঞতা ও অর্থকে প্রকাশ করে। একজন মানুষ কীভাবে বাঁচে, তার অনেকটাই নির্ভর করে সে কীভাবে আয় করে, কী সম্পদের মালিক, কী সুযোগ পায় এবং সমাজে তার অবস্থান কোথায়। আর সেই জীবনই সাহিত্যের প্রধান উপাদান।

সাহিত্য আমাদের অর্থনীতির মানবিক মুখ দেখায়। একজন দরিদ্র মানুষের সংখ্যা জানলে আমরা তার অবস্থার পরিমাণ বুঝতে পারি, কিন্তু তার গল্প পড়লে আমরা তার বেদনা বুঝতে পারি। একজন শ্রমিকের মজুরি কত, সেটি অর্থনীতির প্রশ্ন। সেই মজুরি দিয়ে সে কীভাবে সন্তানকে স্কুলে পাঠায়, কীভাবে অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা করে, সেই গল্প সাহিত্যের প্রশ্ন।

শেষ পর্যন্ত অর্থনীতি মানুষের জীবনকে গড়ে, আর সাহিত্য সেই জীবনের গল্প বলে। তাই অর্থনীতিকে বুঝতে হলে শুধু বাজার ও সংখ্যার দিকে তাকালেই হয় না, মানুষের দিকে তাকাতে হয়। আর মানুষকে বুঝতে হলে তার স্বপ্নের পাশাপাশি তার অর্থনৈতিক বাস্তবতাকেও বুঝতে হয়।

এই জায়গাতেই অর্থনীতি ও সাহিত্য পরস্পরের কাছে এসে দাঁড়ায়। একটি আমাদের বলে মানুষ কীভাবে জীবিকা অর্জন করে, অন্যটি বলে সেই জীবিকা অর্জনের পথে মানুষ কী হারায়, কী পায় এবং কীভাবে মানুষ হয়ে ওঠে।