ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম পরিচিতি
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম হলো ইসলাম ধর্মের মহান সাধক বড়পীর হজরত আবদুল কাদির জিলানী (রহ.) (১০৭৮-১১৬৬ খ্রিস্টাব্দ)-এঁর ওফাত দিবস (বাংলাপিডিয়া, ২০২১)। ফারসি ভাষায় ‘ইয়াজদাহম’ শব্দের অর্থ এগারো (গোলাম সাকলায়েন, ১৯৮৫)। হিজরি রবিউস সানি মাসের এগারো তারিখে এই দিনটি পালিত হয়। ‘ফাতেহা’ বলতে সুরা ফাতিহা পাঠ করে কারও রূহের মাগফিরাত কামনা বা ইসালে সওয়াব করাকে বোঝায়।
বাংলাদেশে প্রচলনের ইতিহাস
বাংলা অঞ্চলে এই দিবস পালনের ইতিহাস কয়েক শত বছরের পুরনো। মধ্যযুগে বাংলায় সুফি সাধকদের আগমনের মাধ্যমে কাদেরিয়া তরিকার বিস্তার ঘটে (আবদুল করিম, ২০০০)। সুলতানি ও মুঘল আমলে দরবেশ ও পীরদের স্মরণ করার রেওয়াজ জনসমাজে দৃঢ় হয় (এম এ রহিম, ১৯৬৩)। পরবর্তীতে ব্রিটিশ আমলে এবং পাকিস্তান পর্ব পেরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে এটি একটি নিয়মিত বাৎসরিক ধর্মীয় আয়োজনে রূপ নেয়।
পালনের সংস্কৃতি
বাংলাদেশে দিনটি ভাবগম্ভীর পরিবেশে পালিত হয়। মসজিদ, মাদ্রাসা এবং খানকাহগুলোতে বিশেষ দোয়া মাহফিল বসে। মানুষ দিনটিতে নফল রোজা রাখেন এবং জিকির-আজকার করেন। আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)-এর জীবন ও কারামত নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। শিরনি, হালুয়া, রুটি ও তবারক বিতরণ এই সংস্কৃতির একটি বড় অংশ। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে অন্ন বিতরণ করা হয়। বাংলাদেশ সরকার এই উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঐচ্ছিক বা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে থাকে (বাংলাদেশ সরকারের বার্ষিক ছুটির প্রজ্ঞাপন)।
তাৎপর্য ও গুরুত্ব
সাধারণ মুসলমানদের কাছে এই দিনটি আত্মশুদ্ধি এবং তাকওয়া অর্জনের এক অনন্য সুযোগ। ভক্তরা সুফিবাদের অহিংসা ও পরোপকারের শিক্ষা স্মরণ করেন (ড. এনামুল হক, ১৯৬২)। সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি পায় এবং দানশীলতার চর্চা বাড়ে। এটি সাধারণ মানুষের মাঝে ধর্মীয় চেতনা ও আল্লাহভীতি জাগ্রত করতে সহায়তা করে।