যে ভোর আমাকে পূর্ণ করেনি

ফিরতি পথের জানালা দিয়ে আর্কটুরাস যেন রাতের শেষ প্রহরের এক নীরব সঙ্গী।

নিশির সব ক্লান্তি পায়ে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছি

ভোরের শহরটাকে আজ নতুন লাগে।

আমার শহর পালাওয়ানের চেয়ে কম নয়

জলরাশির সৌন্দর্য আমাকে বিস্মিত করে।

ভোরের আলোয় বউকথাকওর কূজন

মনে হয় বুঝি স্বর্গের সুখ ভাসে বাতাসে।

দিগন্তে সবুজ গালিচাজুড়ে ছড়িয়ে আছে

রাতের চোখে থমকে থাকা অশ্রুবিন্দু।

ভোরের নির্মল জলে মাছরাঙার ঝাঁপ

একটি মাছে লিখে থাকে তার বেঁচে থাকা।

নিস্তব্ধ ঝিলের ধারে শাপলার থোকা

নির্মল জলের আদরে ঝিলমিলিয়ে ওঠে।

শিশিরভেজা প্রভাতের বিস্তৃত পথে

কৃষকের পিছু পিছু এগোয় গরুর পাল।

আহারভাণ্ডার পরিপূর্ণ করতে অবিরাম

কৃষক বুনে চলে ধানের সবুজ কিশলয়।

জীবনানন্দের উদাস শুভ্র হাঁসগুলো

জলতরঙ্গে বিষাদে বহন করে নিঃসঙ্গতা।

অবসন্ন প্রহর পেরিয়ে জেগে দেখি

ঈশ্বরের ক্যানভাসে আঁকা আমার শহর।

তবুও সব কিছুতে অপরিপূর্ণ আমি এক

নির্ঝর মরুভূমির বুকে উত্তপ্ত বালুরাশি।

নবীনতর পূর্বতন