জুম্মা

জেহান আলী

প্রতি শুক্রবার, পুরোনো মসজিদ থেকে নামাজ শেষে মুসল্লিদের ঢল বেরিয়ে আসত যখন, গোটা একটা মিনিট হারিয়ে যেত গ্রামের ঘড়িটা থেকে। ফয়সাল ছাড়া আর কেউ সেটা খেয়াল করত না। 

শিশুরা ছুটে বেড়াত উঠোন জুড়ে, কবুতরের পেছন পেছন। দোকানিরা আবার দোকানের ঝাঁপি খুলে দিত। গ্রামের বৃদ্ধেরা সেদিনের আকাশের তুলনা করত চল্লিশ বছর আগের আবহাওয়ার সঙ্গে, আর বলত — আকাশটা যেন আগের মতো ধৈর্যশীল নেই আর। মায়েরা সন্তানদের হাত ধরে বাড়ির পথে রওনা দিত। কোথাও না কোথাও শিস দিতে শুরু করত একটা কেটলি — নামাজের শেষ প্রতিধ্বনি পুরোপুরি মিলিয়ে যাবার আগেই।

আর এমনি করেই গড়িয়ে চলত জীবন। শুধু অদৃশ্য হয়ে যেত একটা মিনিট। 

প্রথম প্রথম ফয়সাল ভাবত গ্রামের ঘড়িটা বুঝি বুড়ো হয়ে গেছে। একটা সময় পরে সে বুঝতে শিখল, ঘড়ি বুড়িয়ে যায়নি, বরং বয়স বেড়ে চলেছে তার নিজেরই।
---
প্রতি জুম্মায় সেজদার ধুলো লেগে থাকা জুতো পায়ে মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসত সে। আর প্রতি জুম্মায় বাড়ির দিকে যাওয়া সরু পথটায় পা রাখার আগেই অসহনীয় একটা অনুভূতি তার বুকের ভেতর নেমে বসত। 

আরেকটা শুক্রবার চলে গেল। 
আরেকটা পৃষ্ঠা ছিঁড়ে গেল।
আরেকটা হৃদস্পন্দন খরচ হয়ে গেল।

মনে হতো, কেউ যেন তার বুকের ভেতরে লোহার তৈরি কিছু একটা বসিয়ে দিয়ে গেছে — ছোট্ট একটা বাক্স, যা টিকটিক করে চলেছে অবিশ্বাস্য আদবের সাথে।

টিক...
টিক...
টিক...

খুব জোরে নয়।
হিংস্রভাবে নয়।
যেন কোমল মায়ার ধ্বনিতে ঘড়িটা তাকে মনে করিয়ে দেয় — প্রতিটা ক্ষণ অনেক আগেই বেছে নিয়েছে তাদের গন্তব্য।

প্রতি জুম্মাতেই তার মনে হতো, সে একটা বোমা বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে, অন্য কেউ যা দেখতে পায় না। সে যতই মরিয়া হয়ে ওই তারটা খুঁজে বের করতে চাইছে, যেটা কেটে দিলে বিস্ফোরণ থেমে যাবে, ততই আতঙ্কে কেঁপে কেঁপে উঠছে তার আঙুল। 

শীতের হাওয়া উপত্যকাজুড়ে অবাধে ঘুরে বেড়ালেও, বাড়ি পৌঁছাতে পৌঁছাতে ঘামে ভিজে পিঠে লেগে যেত তার শার্ট। দরজায় কড়া নাড়ার আগেই দরজা খুলে দিত লায়লা, তার স্ত্রী।
— "কি হয়েছে তোমার, এত ক্লান্ত লাগছে তোমাকে?"

আর প্রতি জুম্মায় ফয়সাল একই মিথ্যা কথা বলত।
— "আর বোলো না, আজকে মসজিদে কি যে বিচ্ছিরি ভিড় ছিল!"

আর কোনো শুক্রবারেই লায়লা তাকে জেরা করত না। ভালবাসা প্রায়ই সেই মিথ্যাগুলোকে চিনে ফেলে, প্রিয়জন যেগুলো ধার করে কষ্টের কাছ থেকে।
---
ওদের বাড়ির ঠিক উল্টো পাশে থাকতেন এক বৃদ্ধ কাঠমিস্ত্রি। সবাই তাঁকে 'সালমান চাচা' বলেই চিনত। তিনি এমন সব আসবাব তৈরি করতেন, যেগুলোর কোনো ক্রেতা ছিল না। প্রতিদিন সকালে কাঠ কেটে চেয়ার বানাতেন তিনি। প্রতিদিন বিকেলে সেগুলো বিলিয়ে দিতেন মানুষের মধ্যে। আর প্রতিদিন সন্ধ্যায় তাঁর কাজের জায়গাটা খালি হয়ে যেত আবার। অনেক কাল আগে একমাত্র মেয়েকে হারিয়েছিলেন তিনি, মানুষ বলত, শোক নাকি তাঁর মাথার ভেতরের সবকিছু ওলটপালট করে দিয়েছে। 

একদিন ফয়সাল তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিল,
— "যে জিনিস আপনি নিজের কাছে রাখবেন না, সেগুলো এত যত্ন করে বানান কেন?"

বৃদ্ধ কাঠের গায়ে হাত বুলাতে বুলাতেই মৃদু হেসে বললেন,
— "গাছ ঠিকই জানে একদিন সে চেয়ার হয়ে যাবে, কিন্তু তাই বলে সে তো কখনো কাঁদে না, বাবা।"
---
তার এই কথাগুলো ফয়সাল কে তাড়া করে ফিরত ভীষণ। প্রতি শুক্রবার বুকের ভেতরের সেই নিরলস টিকটিক শব্দের নিচে হারিয়ে যেত তার সেই কথা। একটা সময় পরে, সবকিছুর হিসাব রাখা শুরু করল ফয়সাল ।

প্রথম দাড়ি ওঠার পর থেকে কতগুলো শুক্রবার চলে গেছে।
বাবার জানাজার পর থেকে কতগুলো শুক্রবার কেটে গেছে।
আর কতগুলো শুক্রবার বাকি আছে, যতদিন না তার নিজের সন্তানরা আর তার হাত ধরে হাঁটতে চাইবে না।
সে সূর্যাস্ত গুনত।
মুখের ভাঁজ গুনত।
সাদা হয়ে যাওয়া চুল গুনত।
ভুলে যাওয়া প্রতিশ্রুতি গুনত।

শরতের কোনো এক বিকেলে এক ভবঘুরে দরবেশ এসে উপস্থিত হলেন সেই গ্রামে। তাঁর সঙ্গে কোনো ঝুলি ছিল না, কোনো সম্বলও নয়। ছিল শুধু একটি পুরোনো লণ্ঠন। আশ্চর্যের বিষয়, দিনের আলোতেও তার শিখা জ্বলত অবিচল। 

শিশুরা তাঁর পিছু নিল। কুকুরগুলো ঘেউ ঘেউ করল না। এমনকি তিনি যখন কাকদের নিচে দিয়ে হেঁটে যেতেন, ওরাও তখন নিজেদের ঝগড়া থামিয়ে দিত। 
তিনি কারও কাছে কোনো খাবারও চাইলেন না। বরং জিজ্ঞেস করলেন,
— "এখানে এমন কে আছে, যে শুক্রবারকে ভয় পায়?"

তার কথা শুনে গ্রামের সবাই হেসে উঠল, হাসল না শুধু ফয়সাল। 
---
একদিন সন্ধ্যায় তারা দু'জনে কবরখানার সবচেয়ে পুরোনো ডুমুর গাছটার নিচে গিয়ে বসল। কবরগুলোর মাটি সেদিন ছিল কেমন যেন - অদ্ভুত উষ্ণ। দরবেশ দু'টা ফাটা পেয়ালায় চা ঢেলে দিলেন।

— "আমি জানি, তোমার কাছে মনে হয় যে, তুমি মৃত্যুকে ভয় পাও।"
— "হ্যাঁ, তাই।", জবাব দিল ফয়সাল। 
— "না, আসলে সেটা ঠিক নয়।"

বৃদ্ধ খুব ধীরে মাথা নাড়লেন।

— "আমি জানি কিসে তোমার ভয়; তুমি ভয় পাও, জীবন শেষ হয়ে যাবে — অথচ তার আগে তুমি শিখতে পারবে না, কেমন করে জীবনকে বুকে জড়িয়ে ধরতে হয়।"

দু'জনের মাঝখানে নেমে আসলো অপার্থিব নীরবতা, যেন তুষারপাত হচ্ছে, অথচ কোথাও এতটুকু আওয়াজ পর্যন্ত নাই।

কিছুক্ষণ পরে দরবেশ আবার বললেন,
— "প্রতি শুক্রবার নামাজ থেকে ফিরে তুমি মনে করো, যেন তোমার কাছ থেকে কিছু কেড়ে নেওয়া হয়েছে।"

ফয়সাল জিজ্ঞেস করল,
— "সেটা কি ভুল?"
— "না।"
— "তাহলে কি?"
— "তুমি যখন কোন পথ বেয়ে হেঁটে যাও, পথও কিন্তু পেছনে ফেলে যায় তোমাকে, সেটা নেহাতই চলে যাওয়া, একে অপরকে হারিয়ে ফেলা নয়। তুমি চলে যাওয়াকে হারিয়ে যাওয়া বলে ভুল করছ।"
---
বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল ভেজা মাটির গন্ধ। দূরে কোথাও একটা পেঁচা ডেকে উঠল, মাত্র একবার।

দরবেশ আবার বললেন,
— "ভাবো তো, এমন একজন অভিনেতার কথা, যে নাটকের প্রতিটা সংলাপ মুখস্থ জানে, শুধু শেষ পাতাটা ছাড়া।"

ফয়সাল বলল,
— "শেষটা আমি জানি।"

বৃদ্ধ মৃদু হেসে বললেন,
— "তুমি শুধু জানো যে একটা শেষ আছে।"

তারপর আরও নরম স্বরে যোগ করলেন,
— "তার বাইরে আর কিছুই তুমি জানো না।"
---
সেই রাতে ফয়সাল স্বপ্ন দেখল, সে একটি বিশাল নাট্যশালায় প্রবেশ করেছে। দর্শকদের সবগুলো আসন খালি। পর্দাগুলো আপনাআপনি খুলে গেল। মঞ্চের মাঝখানে একা দাঁড়িয়ে রইল সে। একটার পর একটা দৃশ্য ঠিক সেভাবেই উন্মোচিত হতে লাগল, যেভাবে তার স্মৃতি বহুদিন ধরে তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে।

তার শৈশব। 
বড় হয়ে ওঠা। 
তার বিয়ে।
মায়ের হাসি।
বাবার দাফন।
তার সন্তানদের জন্ম।
প্রতিটা আনন্দ।
প্রতিটা ক্ষত।
প্রতিটা দোয়া।
কিছুই বদলায়নি।
কিছুই তাকে বিস্মিত করেনি।
কিন্তু মঞ্চের পর্দার আড়ালে কেউ একজন নিঃশব্দে আগামীকালকে নতুন করে লিখে চলেছিল।
যতবারই ফয়সাল পর্দার আড়ালে উঁকি দিতে চাইত, ঠিক তখনই শুরু হয়ে যেত আরেকটা নতুন দৃশ্য।

শেষ পর্যন্ত আর ধৈর্য রাখতে পারল না ফয়সাল, চিৎকার করে বলে উঠল,
— "তুমি কে?"

অদৃশ্য একটা কণ্ঠ উত্তর দিল,
— "যার গল্প তুমি শেষ করে ফেলতে চাও, অথচ আমার তো এখনো সেটা বলা শেষ হয়নি।"

ভোরের আজানের আগেই ফয়সালের ঘুম ভেঙে গেল। তার গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়া অশ্রু ততক্ষণে শুকিয়ে গেছে। অনেক দিন পর সে ওজু করল খুব ধীরে সুস্থে। এই কারণে নয় যে নামাজ ছুটে যাওয়ার ভয় ছিল। বরং এই কারণে যে, আরো কিছুটা ক্ষণ সে ওই পানির ভেতর থাকতে চেয়েছিল।
---
পরের শুক্রবারটাও এসে গেল, যেমন করে আসে অন্য সব শুক্রবার। খুতবা শেষ হলো। মানুষ একে অপরকে আলিঙ্গন করল। শিশুরা হেসে উঠল। কবুতরগুলো আকাশে উড়ে গেল — যেন মুঠো মুঠো ভুলে যাওয়া দোয়া একসাথে ছুড়ে দেওয়া হয়েছে আকাশের দিকে।

বুকের ভেতর সেই পরিচিত টিকটিক শব্দটা আবার ফিরে এল তার। কিন্তু এবার তার সঙ্গে ছিল আরেকটা সুর। পাখির গান। মৃদু। প্রায় অদৃশ্য। মনে হচ্ছিল, এই দুই সুর — ঘড়ির টিকটিক আর পাখির কলতান — চিরকাল পাশাপাশি ছিল। শুধু এতদিন ফয়সাল তাদের মধ্যে একটা শব্দই শুনে এসেছে।

এমনকি তার মনে হলো, পাখিরাও যেন নির্দিষ্ট সংখ্যা মেনে আকাশে উড়ে বেড়ায়। শুধু সময়ই অস্বীকার করে — কোনো হিসাবের মাঝে ধরা দিতে। 

সপ্তা গড়িয়ে মাস হলো। কত ঋতু আসলো আর কত ঋতু গেল, তাদের ভাঁজে ভাঁজে মিশে গেল মাসগুলো। অথচ বুকের ভেতর থেকে সেই অদৃশ্য বোমা একটা বারও হারাল না। তবে একদিন ফয়সাল আবিষ্কার করল এমন একটা সত্য, যা তাকে স্তব্ধ করে দিল।

আসলে ওটা কোনো বোমাই ছিল না। ওটা ছিল একটা ঘড়ি যা কোনো ধ্বংসের দিকে সময় গুনছিল না — বরং তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল বাড়ির পথে।
---
তুষারঝরা বিকেলে ফয়সাল আবার সালমান চাচার বাসায় গেল। বৃদ্ধ কাঠমিস্ত্রি ততদিনে অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছেন। আরো একটা চেয়ার ঘষে ঘষে মসৃণ করতে গিয়ে বারবার কেঁপে উঠছিল তাঁর হাত।

ফয়সাল জিজ্ঞেস করল,
— "আচ্ছা, আপনি এখনো এগুলো মানুষকে দিয়ে দেন?"

বৃদ্ধ শান্ত কণ্ঠে বললেন,
— "এগুলোর কোনোটাই কোনোদিন আমার ছিল না।"

— "তাহলে আপনার নিজের কি আছে?"
বৃদ্ধ জানালার দিকে তাকালেন। তুষারের কণাগুলো নীরবে জমা হচ্ছিল বাইরে, একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা না করেই।

তিনি মৃদু হেসে বললেন,
— "শুধু অতটুকুই, যা আমি এত গভীরভাবে ভালবেসেছি যে শেষ পর্যন্ত ছেড়ে দিতে পেরেছি।"
---
সেই শীতেই কোন একদিন সালমান চাচা ইন্তেকাল করলেন — তাহাজ্জুদের অস্ফুট নীরবতায়, ফজরের আজানের ঠিক আগে। গ্রামের মানুষ তাঁর বাসায় গিয়ে দেখতে পেল, অর্ধসমাপ্ত অসংখ্য চেয়ার পড়ে আছে চারিদিকে। কেউ সেগুলো স্পর্শ করল না, পরের শুক্রবার পর্যন্ত। জুম্মার দিন সকালে কেউ কোনো কথা না বলে একে একে সবগুলো চেয়ার এনে রেখে দিল মসজিদের উঠোনে। 

মুসাফিররা সেখানে বসে বিশ্রাম নিল।
বিধবারা সেখানে বসে নিঃশব্দে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
শিশুরা সেগুলোর উপরে উঠে খেলতে লাগল।

মৃত্যুর কাছ থেকে কোনো অনুমতি না নিয়েই বেঁচে রইল সালমান চাচার উদারতা।

আর এভাবে ফয়সাল বুঝতে পারল — 
কিছু মানুষ সারা জীবন ব্যস্ত থাকে আসবাবপত্র জড়ো করতে ।
আর কিছু মানুষ গাছ হয়ে যায় — একটা জনমভর।
---
তারপর কেটে গেল বছরের পর বছর। ফয়সালের দাড়ি তখন ধবধবে সাদা। তার সন্তানরা বড় হয়ে গেল। ওদের কণ্ঠে অদ্ভুতভাবে যেন নিজেরই কণ্ঠস্বর শুনতে পেল সে। লায়লার হাতের চামড়ায় ফুটে উঠল সেই কোমল মানচিত্র, যা কেবল বহু বছরের দয়া, মমতা আর ভালবাসাই এঁকে দিতে পারে।

প্রতি শুক্রবার এখনো নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরত সে।
প্রতি শুক্রবার সেই পুরোনো ব্যথাটা ফিরে ফিরে আসত।

তবে এখন সেই অনুভূতিতে ভয়ের চাইতে আকুলতার সুরই বেশি। সে আর গল্পটাকে থামিয়ে দিতে চাইত না। সে শুধু দোয়া করত —যেন নিজের সংলাপগুলো ভুলে না যায়। 

মাগরিবের পর কখনো কখনো জানালার পাশে দাঁড়িয়ে, ঘনিয়ে আসা অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে সে বলে উঠত,
— "ও আমার রব... আমি যে আজও সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারছি না।"
তার কথার জবাব নিয়ে আসত নীরবতা, তবে আগের মতো আর ভয় পেত না ফয়সাল। শব্দহীনতা তাকে জড়িয়ে ধরত, যেভাবে শীতের ভোরে কাঁধে একটা গরম শাল জড়িয়ে দিতেন তার মা।

আর সেই নীরবতার গভীরে লুকিয়ে থাকত এমন এক উত্তর, কোন ভাষা যা কোনদিন অনুবাদ করতে পারে না।

— "তোমাকে কখনোই বলা হয়নি যে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটতে হবে।"
— "তোমাকে শুধু বলা হয়েছে — হাঁটতে থাকো।"

অভিনেতা নিজের চরিত্র চিনে ওঠার বহু আগেই তার প্রতিটি নীরব প্রার্থনা শুনে ফেলেছিলেন নাটকের পরিচালক। আর পর্দার ওপাশটাতে — যে পর্দা উন্মোচন করতে পারে না এই দেহের কোন চোখ — নীরবে অপেক্ষা করে ছিল শেষ দৃশ্য; সমাপ্তি হিসেবে নয়, বরং অনন্তের কাহিনীর প্রথম মহড়া হিসেবে।
নবীনতর পূর্বতন