মো. রিদওয়ান আল হাসান
এই দুনিয়া থেকে তোমার বিদায়কে আমি মৃত্যু বলি কীভাবে? যেখানে নিজেকেই একটা লাশের মতোন অস্তিত্ব-অনস্তিত্বের মাঝামাঝি কিছু একটা মনে হয়। যেখানে আমার সত্তা, আমার চিন্তা আর চেতনা আষ্টেপৃষ্টে মিশে আছে হাজারো মিথ্যার সাথে। নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে সমাজের এক অসুস্থ, অন্ধ কানুনে। যেখানে আমি নিজেই তো কেবল মাংসের এক সস্তা খোলস। পোশাক, গায়ের রঙ, চেহারা, সম্পদ কিংবা দুনিয়াবি মাকামের মিজানে আমি প্রতিদিন নির্বাচিত, নির্বাসিত কিংবা আলোচিত-সমালোচিত।
প্রতিদিন জীবিকা, ক্ষমতা আর অর্থের পেছনে এই অবধারিত ছুটে চলা, অমীমাংসিত তাড়না, প্রেরণা বা হাহাকারকে গলা টিপে ধরা আমার ভেতরে এক তীব্র যাতনা, এক দোজখ তৈরি করে।
মানুষের এই কীটজ রূপ, এই আত্মিক ব্যাধি, অন্ধ প্রতিযোগিতার সংক্রমণের ভিড়ে একটা অশ্লীল অসভ্য রূপে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার নামই কি তবে বেঁচে থাকা? এই নশ্বর দেহের দাসত্ব, এই রিপুর পরাধীনতা, দুনিয়াবি এই মাদকতার নাম যদি হায়াত হয়, তবে আমি নিশ্চিত যে মৃত্যুর পর্দা পেরিয়ে তুমি আমার চেয়েও তীব্রভাবে, সুন্দরভাবে, আলোকিত রূপায়ণে বেঁচে আছ।
তোমার হৃদয় আজ এই মহাজগতের আদিম হিকমতের কাছাকাছি। যে রহস্য দুনিয়াতে আমাদের বিভাজিত করেছিল—কেউ নাস্তিক, কেউ আস্তিক, কেউ দরবেশ, কেউবা ফকির, তোমার কাছে আজ তার পর্দা উঠে গেছে। তুমি তো এখন অজানা, অদেখা অনেক কিছু খুব কাছ থেকে অনুভব করছো, প্রত্যক্ষ করছো।
তাহলে তুমিই বলো, তোমাকে মৃত বলি কীভাবে? বরং আজ, এই আর্দ্র ধরিত্রীতে, নক্ষত্র থেকে বিচ্ছুরিত অস্পষ্ট আলোকের দূরত্বে, মাটির এই খাঁচায় বন্দি আমিই আসল মুর্দা। নিজে এই মৃত্যু উপত্যকায় দাঁড়িয়ে আমি কীভাবে অন্যকে মৃত বলি? কালান্তরের ফেরাউনও হয়তো আজ আমার মতো জ্যান্ত মুর্দার তুলনায় জিন্দারূপে জাগ্রত!
