আমি গান গাইতে পারি না

শাহ আবদুল করিম


গানে মিলে প্রাণের সন্ধান, সেই গান গাওয়া হলো না
আমি গান গাইতে পারি না।


জানি না ভাব-ক্রান্তি গাইতে পারিনা সেই গান
যেই গান গাইলে মিলে আঁধারে আলোর সন্ধান
গাইলেন লালন, রাধা রমণ, হাসন রাজা দেওয়ানা
আমি গান গাইতে পারি না।


বাউল মুকুন্দ দাস গেয়েছেন দেশেরই গান
বিদ্রোহী নজরুলের গানে পাইলেন মুক্তির সন্ধান
ভাবের গান গাইতে গেলে অভাবে ভাব জাগেনা
আমি গান গাইতে পারি না।


আরকুম শাহ্, সিতালং ফকির বলেছেন 'মারফতি গাও'
সৈয়দ শাহ্ নূরের গানে শুকনাতে দৌড়াইলেন নাও
করিম বলে প্রাণ খুলে গাও গাইতে যাদের বাসনা
আমি গান গাইতে পারি না।


আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি শাহ আবদুল করিমের জন্মদিনে তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে সাহিত্যনামা...


জন্ম: ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯১৬
মৃত্যু: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০০৯

প্রারম্ভিক জীবন
শাহ আবদুল করিমের জন্ম সুনামগঞ্জের দিরাই থানার উজানধল গ্রামে। দারিদ্র্যের কারণে শৈশবে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা লাভের সুযোগ পাননি, কিন্তু গ্রাম্য পাঠশালায় প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি বাউল সাধক রথীন্দ্রনাথ দে'র শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন, যা তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

সাংস্কৃতিক অবদান
সুরের জাদুকর: ৩০০+ গানের রচয়িতা, যেখানে মরমী সাধনা, প্রেম ও মানবতাবাদী দর্শন মূর্ত হয়েছে।
গীতির বৈশিষ্ট্য:
✅ লোকসুরের সঙ্গে সুফি দর্শনের সংমিশ্রণ
✅ সহজ-সরল ভাষায় গভীর দার্শনিক বক্তব্য
✅ "কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু", "বসন্ত বাতাসে" এর মতো কালজয়ী সৃষ্টি
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
📖 আফতাব সঙ্গীত (১৯৫৮)
📖 কালনীর ঢেউ (১৯৮১)
📖 ধলমেলা (১৯৯০)
স্বীকৃতি ও পুরস্কার
একুশে পদক (২০০১)
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৯৯)
সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড (২০০৬)
ব্যক্তিগত দর্শন
"গানে গানে মানুষকে জাগাতে চাই,
পথ হারা́দের পথ দেখাতে চাই।
মাটির গন্ধ মাখা এই জীবনেই
স্রষ্টার সন্ধান পাই।"

তাঁর গান কেবল শিল্পই নয়—বাংলার মাটি ও মানুষের আত্মার দলিল। বাউল গানের এই কিংবদন্তি ৯৩ বছর বয়সে ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, কিন্তু তাঁর সৃষ্টি আজও বাঙালির হৃদয়ে অনুরণিত হয়।
নবীনতর পূর্বতন