মওলানা শেখ হিশাম কাব্বানীর শিক্ষা

 "হে আল্লাহ! আমাকে আমার নফসের বা প্রবৃত্তির ওপর ছেড়ে দিয়ো না।"

মওলানা শেখ হিশাম কাব্বানী কাদ্দাসাল্লাহু সিররুহু 

আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন ওয়া সাল্লিম।
নবী কারিম ﷺ বলেছেন, "হে আল্লাহ! আমাকে আমার নফসের ওপর ছেড়ে দিয়ো না।" আল্লাহু আকবার। সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদ ﷺ এর কি কোনো নফস বা অহংকার বা আমিত্ব ছিল? না। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা জিবরাইল আলাইহিস সালামকে পাঠিয়ে তাঁর বক্ষ মোবারক উন্মুক্ত করেছিলেন এবং প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে থাকা সেই ছোট্ট কালো দাগটি বের করে নিয়েছিলেন যেখান দিয়ে শয়তান প্রবেশ করে, তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো নফস বা অহংকার নেই! 
কিন্তু, এই দোয়ার মাধ্যমে তিনি মূলত আমাদের এই শিক্ষা দিয়েছেন যে, "নিজেকে কখনোই নিজের প্রবৃত্তির কামনার অধীন হতে দিয়ো না।"

আর এ কারণেই আপনারা আজ দেখতে পান মানুষ একটি চেয়ারের বা ক্ষমতার জন্য লড়াই করছে! নিজেকে নিজের প্রবৃত্তির কামনার অধীনে ছেড়ে দেবেন না। এ জন্যই আজ মানুষ একটি চেয়ারের জন্য অর্থাৎ পদবি, নেতৃত্ব ও ক্ষমতার লোভে একে অপরের সাথে লড়াই করছে এবং একে অপরকে হত্যা করছে, অথচ দয়াল নবীজি ﷺ বলেছেন, "চেয়ার বা ক্ষমতার লোভ থেকে দূরে পালাও!" আল্লাহ তাঁকে এটি দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা থেকে দূরে সরে থেকেছেন। আল্লাহ যদি আপনাকে এটি প্রদান করেন তবে তা ঠিক আছে, তবে মনে রাখবেন জান্নাত কেবল বিনয়ী বা অবনতদের জন্যই। আল্লাহ এমনটি বলেননি যে জান্নাত কেবল নিষ্পাপদের জন্য, বরং, এটি কেবল বিনয়ীদের জন্য সংরক্ষিত। 

'আস্তাগফিরুল্লাহ' বা ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে হয়তো গুনাহ মাফ হয়ে যেতে পারে। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "আমাকে মানবীয় চরিত্র ও আচরণকে পূর্ণতা দান করার জন্য এবং মানুষকে সর্বোচ্চ নৈতিক উৎকর্ষের স্তরে উন্নীত করার জন্য একজন বার্তাবাহক হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে।"

মূলত নৈতিক উৎকর্ষই হলো ইসলাম! ইসলাম কেবল পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা এবং রমজান মাসে রোজা রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় যা মানুষ প্রথা হিসেবে পালন করে থাকে। তাদেরকে নামাজ পড়ার শিক্ষা দিয়ে বড় করা হয়েছে বলে তারা নামাজ পড়ছে, কিন্তু তাদের চরিত্র ও আচরণের দিকে একবার তাকিয়ে দেখুন। যদিও ফরজ ইবাদতগুলো অবশ্যই পালন করতে হবে, তবে নবীজি ﷺ  এ কথাও বলেছেন, "আমাকে পাঠানো হয়েছে তোমাদের পূর্ণতা দেওয়ার জন্য, তোমাদের সর্বোত্তম আদব বা শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়ার জন্য।" তাই তিনি সাহাবায়ে কেরামকে উত্তম শিষ্টাচার শেখাতে চেয়েছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন, "জান্নাতবাসীরা হলো তারা, যারা বিনয়ী।" এরপর তিনি বললেন, "তোমরা কি চাও আমি তোমাদের বলি জাহান্নামের অধিবাসী কারা?" তারা বললেন, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "যে ব্যক্তি অহংকারী এবং নিজেকে নিয়ে গর্ববোধ করে।"

এমন ব্যক্তি নিজেকে নিয়ে এতই উচ্চ ধারণা পোষণ করতে পারে যে সে ভুলেই যায় একদিন মৃত্যুর ফেরেশতা তার কাছে এসে বলবে, "এদিকে এসো!" এবং শুধুমাত্র তাঁর ডাক শোনার সাথে সাথেই সে ব্যক্তি ছুটতে শুরু করবে। আমরা কি মৃত্যুর ফেরেশতাকে "না" বলতে পারবো বা এড়িয়ে যেতে পারবো? মহান আল্লাহ মৃত্যুর সময় আমাদের ক্ষমা করুন।
🌹 মওলানা শেখ হিশাম কাব্বানী কাদ্দাসাল্লাহু সিররুহু
১৮ ডিসেম্বর ২০১১ মেলাকা, মালয়েশিয়া
#Sufilive 💚
নবীনতর পূর্বতন