জুবায়ের হোসাইন
![]() |
| ছবি: লেখকের ফেসবুক থেকে নেয়া |
গড়াই নদীর ধারের ঐ বটগাছটা যেন কী বলতে চায়
বহুবার অবশ্য বসেছি তার কাছে
শোনার চেষ্টা করেছি তার অন্তঃবাক্য
বুঝিনি কিছুই, হয়তো শব্দটা বিশ হার্জের নিচে।
বহুবার অবশ্য বসেছি তার কাছে
শোনার চেষ্টা করেছি তার অন্তঃবাক্য
বুঝিনি কিছুই, হয়তো শব্দটা বিশ হার্জের নিচে।
মুখ তো নাই, ওতো বেশি হবে না
সবমিলিয়ে পাঁচ-দশ হার্জ হবে হয়তো
তবে হাল ছাড়ি না আমিও নাছড়বান্দা,
বার বার যাই তাহারে শুধাই, যদি সে কিছু কইতো?
একবার আমি জিজ্ঞাসা করলাম তুমি তো অচল!
মানুষের দেখো বুদ্ধি কত ঘটে
গাছ বললো তোমাদের তো নিজের নাইকো বল
গাছের শব্দ হঠাৎ শুনে অবাক হলাম বটে।
গাছ কইলো,
তোমরা তো নির্ভরশীল জীব, অত্যাচারী শাসক
ডাকাতি আর জুলুমই হইলো কর্ম
শুনে একটু রাগ হইলো আমার, বললাম দিব্যি তো আছো,
এত ঘৃণা কেন মানব কুলের প্রতি, টিকে আছো তো মানুষেরই জন্য।
গাছ কইলো আমি তো বংশ পরম্পরা
আগের দুজন গেছে মানুষের পেটে।
ঐ যে করিমের ঘরের খাটটা? আমার ভাইরের মাংসে গড়া।
সলিমের ঘরে যে আলমারিটা? ওটাও।
আমি কইলাম, বাঁচতে হলে জরুরি এসব অতি
সে হাসিয়া কইলো এজন্যই তোমরা নির্ভরশীল জাতি।
আমি অবশ্য কিঞ্চিত লজ্জিত হইলাম-
গাছ বলতে থাকলো, তোমরা মানুষ আরামপ্রিয় খুব
তাতে অবশ্য আমার আপত্তি নেই ঢের
খাট-আলমারি বানানো শেষেও তবে গাছ কাটো কেন ফের?
শুধিলাম তারে, সন্তান কি আছে? আছে কোনো ভবিষ্যৎ?
না থাকলে তুমি বুঝবে কী করে, দায়িত্ব যখন পড়ে ঘাড়ে
গাছ না কাটলে সন্তানের জন্যও আলমারিটা হবে কী করে?
গাছ মুচকি হেসে কইলো,
ডাকাতের ছেলে ডাকাতই হবে, মারবে গাছের জান
এজন্যই হয়তো দেয়নি খোদা গাছের মুখে জবান।
তর্কে জিতে ফিরতে গিয়ে ভাবলাম একটু বসে
গাছের দু:খ শুনতে এসে যুক্তি দিলাম ঠেসে।
