জুলুমাতের তীব্র অন্ধকার নিজাম,
নৃশংস চিৎকারে শূকরীর প্রসব বেদনা-
আর গায়রে মুশাক্বাফের দুর্বৃত্তির ঘূর্ণি,
জন্ম দেয়-
আকণ্ঠ যন্ত্রণায় আত্..
কবি মো. রিদওয়ান আল হাসানের জন্ম ২০০৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর, ময়মনসিংহ নগরে। গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুল থেকে মাধ্যমিক, আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিজ্ঞানে উচ্চমাধ্যমিকের পর বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে অধ্যয়নরত।
বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং ব্লগে তার লেখা বেশ কয়েক বছর ধরে প্রকাশিত হয়ে আসছে, বেশিরভাগই কবিতা। ২০২৩ সাল থেকে সহযোগী সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন সাহিত্য পত্রিকা এবং প্লাটফর্ম ‘সাহিত্যনামা’য়। জীবনবোধ, আধ্যাত্মিকতা এবং মানব জীবনের আবহমান জটিলতাই তার লেখার উপজীব্য।
প্রকাশিত বই: হ্যালুসিনেশন (একক গল্পগ্রন্থ, ২০২১)
-প্রদীপ প্রজ্বলন (যৌথ কাব্যগ্রন্থ, ২০২১)
আমি আর অভ্যুত্থান
✍️মো. রিদওয়ান আল হাসান
শুরু করলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে,
কলাভবন-সেন্ট্রাল লাইব্রেরি-টিএসসি থেকে শাহবাগ, শাহবাগ থেকে সারা বাংলা,
আন্দোলনের তীব্রতা বাড়তে লাগলো উল্কার বেগে,
অতঃপর আলোর বেগ পেরিয়ে মহাকালের সপ্তম সীমানার স্তম্ভে গিয়ে দাঁড়ালো।
আমি এলাম নিজের শহরে, ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে যে প্রাচীন নগর, ময়মনসিংহে।
টাউন হল থেকে নগরের প্রতিটি মহল্লায়, দেয়ালে, বৃক্ষে, মানুষের ঐশ্বরিক হৃদয়ে পৌঁছে গেলো এই প্রাণের অভ্যুত্থান,
অত্যাচারের বিরুদ্ধে মানুষ নিল তার অবস্থান।
জানিয়ে দিল, প্রতিবাদ করতে তারা ভুলে যায় নাই।
একাত্তরের চিরায়ত বিবেকের তাড়নার-
অবসান ঘটে নাই।
সমাজের আয়নায় আমি আর তখন একা নই,
লক্ষ্য প্রাণের স্পন্দন মিশে গেছে ব্রহ্মপুত্র থেকে যমুনায়।
এরপর অসংগত ষড়যন্ত্র, হত্যা, রক্তপাত, অত্যাচারে-
জুলুমাতের মর্সিয়ায় ভারী হলো নৈসর্গিক হৃদয়বৃত্তি।
কত উৎকণ্ঠা, দ্বিধা, আটক-নির্যাতনে-
ভয়ক্লিষ্ট হলো সহস্র শিক্ষার্থী-জনতা পরিবার!
সত্যের বিরুদ্ধে মিথ্যার লির্লক্ষ্য কশাঘাত,
চোখের সামনে ভাইয়ের মৃত্যু, বোনের আর্তনাদ আর মর্দিত শিশু,
পশুত্বের উৎসবে অশিষ্ট অভিশপ্তদের অভিনয়ে-
খোদার আসনও যেন কাঁপতে থাকলো।
শেষে ভেদশূন্য সমাগমে, ঐক্যের আহ্বানে লক্ষ্য জনতার জোয়ারে-
রিক্তবক্ষে নেমে আসে উষ্ণ প্রভায় সুখের মতোন যন্ত্রণা-
স্বৈরাচারের অন্ত-যবনিকা।
এখন, তবু, সজাগ থাকে হৃদয়,
যেন আর প্রাণের ভূমিতে জেগে না ওঠে স্বৈরতা-
নষ্ট যেন না হয় স্বাধীনতার অর্জন।
বাড়াবাড়ি আর চর্চিত অনৈতিক কিংবা হুজুগে আলোড়নে যেন ব্যর্থ না হয়-
বাংলার বাঘেদের গর্জন।
বিপ্লব
✍️ মো. রিদওয়ান আল হাসান
সাতটি আকাশের বুকে হাজার হাজার নক্ষত্রের তীব্র আলো,
সাতটি মহাসমুদ্রের জলে শহিদের স্বজনের নীল বেদনা,
সাতটি জীবনের গল্পের স্বাদের সুরার দুঃসহ তিক্ততায়-
মনে পড়ে,
উদয়াচল পর্বতের নীরব বিপ্লবের স্মৃতি, সেই বিপ্লব-
এই বাংলায় আসে কি বারবার?
মহাজগতের আবহের তীব্র আর্তনাদ আর গোপন কথা,
জুলুমাতের তীব্র অন্ধকার নিজাম,
নৃশংস চিৎকারে শূকরীর প্রসব বেদনা-
আর গায়রে মুশাক্বাফের দুর্বৃত্তির ঘূর্ণি,
জন্ম দেয়-
আকণ্ঠ যন্ত্রণায় আত্মঘাতী শিশু, বিপ্লব অনুগত শিশু।
সুদিন বেহাত ঐতিহাসিক গাথা গাঁথার প্রাক্কালেই,
তবু, আশা-নিরাশার দ্বৈত মৌলের মহাকাশযানে-
লিখা থাকে বিপ্লব পরবর্তী প্রেমের কথা, বিপ্লব শেষে তোমার সাথে সংসার।
সমযোজী না আয়নিক-
কোন মানবিক বাঁধুনিতে জন্ম নিবে মীমাংসিত বিপ্লবের শিশু?
যদিও মানবতা নিখোঁজ হয়ে গেছে সেই কারবালার ক্রন্দনে-
অনেক- অনেক আগে,
ফোরাতের স্রোত তা জানে।
সূত্র: আইনিউজবিডি

