জেহান আলী
এই দৃশ্যটা আমি অসংখ্য বার দেখেছি, তোমার হাতটা ধরে আছি শক্ত করে, তবুও তুমি আমার হাত ফসকে তলিয়ে গেলে; কোথায় গেলে সেটা বড় কথা নয়, পাহাড় চূড়া থেকে নিচে, নাকি সাগরের বুক থেকে গহীনে; হারিয়ে গেলে, আর আমি একা হয়ে গেলাম - সেটাই আসল কথা। কিন্তু তার পরেই কেউ একজন আমাকে বুঝিয়ে দেয়, এটা আমার কল্পনা মাত্র, আসলে তো তুমি আছ - যেমনটা ছিলে সারাজীবন ভর। আমি তাকে ধমক দেই, বলি, চুপ করো, তোমার কথা শুনতে আমার ভালো লাগছে না। আমার বকা শুনে সে চলে যায় - যেভাবে কালো মেঘ হারিয়ে যায় ঝড়ের বাতাসে - এতটুকু বৃষ্টিও না ঝরিয়ে।
এখন দিনে দুপুরে হাত বাড়াই তোমাকে ধরব বলে - কিন্তু এই যে তোমাকে আর পাই না - মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছা হয় ভাবতে - আহা, এটাও যদি সেরকম কোন কল্পনা হতো! আবার ক্ষণে ক্ষণে এরকমও মনে হতে থাকে - আগে তো তোমাকে হারাবার ভয় ছিল - এখন সেটা আর নাই; আগে তুমি ছিলে চোখের সামনে, আগে হারিয়ে যেতে পারতে এই বিশাল পৃথিবীর আনাচে কানাচে - যে কোন জায়গায় - না জানি কোন বিপদ আপদ তোমাকে ঘিরে থাকত সেখানটাতে; আর এখন - যদি হারিয়েও যাও - আমি তোমাকে খুঁজে নেব ঠিক এখানটাতে - ভীষণ সুন্দর সব স্মৃতি দিয়ে সাজানো সেই ঘরে - এই হৃদয়ের গহীনে যার ঠিকানা।
সেই গোপন আশ্রয়ে তুমি এখন আগের চেয়েও বেশি বাস্তব। কোনো দূরত্ব তোমাকে আমার থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে না, কোনো অনিশ্চিত বিপর্যয় তোমাকে মুছে দিতে ব্যর্থ হয়। তুমি যে এখন আর শুধু একটা উপস্থিতি নও — আমার সত্তার বুননে জড়িয়ে যাওয়া চিরজাগ্রত সত্য।
হয়ত এটাই ভালবাসার সেই গোপন রহস্য, যা উন্মোচিত হয় হারানোর পরে — যাকে আমরা দুনিয়ায় হারাবার ভয় করি, সে-ই কিনা ফিরে আসে আত্মার ভেতরে - এক অনন্ত রূপে — যেখানে আর কোনো ফসকে যাওয়া নেই, আর - তোমাকে আমি কখনই মিথ্যা বলিনি - ঠিক যেমন কোন দিন বলিনি, ‘বিদায়’ - কেননা কোনো বিদায়ই চূড়ান্ত নয়।
২৯ মার্চ, ২০২৬
Tags:
জেহান আলী
