মাঝে মাঝে মনে হয়, আচ্ছা, অন্য দ্বীপগুলোর কেমন লাগে — এভাবে একলা থাকা, অন্য সবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে, কোথাও কোনো সেতু নেই, ঝাপসা একটা ধারণা নিয়ে যে, আমার মতো আরও অযুত লক্ষ দ্বীপ হয়ত আছে, এই তো - আশেপাশেই - অথচ কারো কোন উপায়ই নাই - একে অপরের সাথে যোগাযোগ করবার…?
নাহ্ — এটা পুরোপুরি সত্য নয়, আসলে হাজারটা উপায় আছে এই কথা বলার — হ্যালো, আমি তোমার মতোই জলবেষ্টিত এক টুকরো জমিন, তুমি কেমন আছো? ও আমার ভাই দ্বীপ? ও আমার বোন দ্বীপ? আজকের দিনটা কেমন গেল তোমার? তুমি ভালো আছো তো? আমাকে কিছু বলতে চাও? বিশ্বাস করো, যা খুশি তাই বলতে পারো তুমি আমাকে, অন্য কোনো দ্বীপকে কিচ্ছু বলব না আমি, তোমার কথাগুলো আমার কাছে নিরাপদ থাকবে, নিশ্ছিদ্র গোপন খামের নীরবতায়।
নাহ্ — আসলে অনেক বেশি দেরি হয়ে গেছে, এতদিন পর - কেমন করেই বা এগুলো বলতে পারে কেউ - প্রাপ্তবয়স্ক পাথুরে একটা দ্বীপ, তাও আবার এরকম তুচ্ছ ছোটখাটো আলাপ? এখন — যখন কিনা জীবন ইতিমধ্যেই পাশ কাটিয়ে চলে গেছে, দ্বীপটা যখন ডুবেই গেছে আধখানারও বেশি, পরবর্তী জীবনের গোপন রহস্যের অতলে?
আহা, অন্য সবগুলো দ্বীপ কি ভীষণ অজানা আর অচেনাই না রয়ে গেল - যেরকম অজানা রয়ে গেলাম আমি, নিজেই নিজের কাছে।
দ্বীপ দ্বীপান্তর
~ জেহান আলী, ২৩ রজব, ১৪৪৭
