আমাদের জীবনটা অন্যরকম হতে পারতো। পাহাড়ের ওপর আমাদের একটা বাসা থাকত, যার নিচে সমুদ্রের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ত। তোমার সাথে দেখা করতে আমাকে প্লেনে ট্রেনে বাসে চেপে ছোটাছুটি করতে হতো না। তুমি ব্যস্ত থাকতে বাগানে, আমি স্টাডি রুমে। বিকেলে বারান্দায় বসে আমরা চা খেতাম, কুটুর কুটুর করে কথা বলতাম। অন্যরা যেখানে ছুটি কাটাতে আসে আমাদের জীবনটা হতো সেরকম একটা স্বপ্ন। আমরা কোনদিন ক্লান্ত হতাম না, এতটুকুও একঘেয়ে লাগত না কোন কিছু। বৃষ্টির দিনে সমুদ্র যখন ধূসর চাঁদরটা গায়ে দিয়ে ভিজতে থাকত, আমরা তখন গায়ে কাঁথা মেলে সিনেমা দেখতাম, পপকর্ন খেতে খেতে। কি হতো, আমাদের জীবনটা এরকম হলে? তোমার কোনদিন অসুখ হতো না, আমার কখনো অস্থির লাগত না। শরতের পাতার মতো আমাদের স্বপ্ন গুলো কোনদিন ঝরে যেত না।
তবে হ্যাঁ, এই স্বপ্ন পুরো করতে গিয়ে তুমি যদি আমাকে ভালো না বাসতে? তখন? সবকিছু অদ্ভুত সুন্দর, অথচ তোমার আমার মন যদি কোনভাবে বিষিয়ে যেত? আমরা যদি একে অপরকে বিশ্বাস করতে না পারতাম?
না বাবা, আমার দরকার নেই। আমি যেখানে আছি সেটাই বরং ভালো। আমাদের যা নেই, সেটা না হয় এই কল্পনাতেই থাকুক। যা আছে, যা ছিল, সেগুলো থাকুক স্মৃতির পাতায়। তুমি যতদিন ছিলে, আমাদের বিশ্বাস ছিল পাহাড়ের মতোই অটল, প্রেম ছিল সাগরের মতোই গভীর। আর এখন, সেই সবকিছুই ক্ষণে ক্ষণে বেড়ে চলেছে। আমি বুঝে গেছি, তুমি আসলে ঠিক ওরকম একটা জায়গাতেই আছ। বাসাটা সাজিয়ে নিচ্ছ নিজের মতো করে। আমি এসে পড়লেই সবকিছু ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাবে। প্যাটিওর চওড়া দরজাটা খুললেই কি বিশাল সমুদ্র। এখন হামেশাই সেই বাতাসে প্রাণ জুড়ায় আমার।
অন্যরকম
~ জেহান আলী, ২০২২
ছবিঃ Towfique Shahid
