পরিণতি মো. লতিফুর রহমান খান উৎসর্গ: এই গল্পের প্রতিটি শব্দ, যা কিছু আলো ছড়াল, তার উৎস তুমিই, হে আমার গোপন তারা |
| লেখক মো. লতিফুর রহমান খান (ফারদিন) |
সকাল সাতটা। রাতুল প্রতিদিনের মতো প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় যাওয়ার জন্য। হঠাৎ রাতুলের মুঠোফোনে রাফিয়ার কল, রাতুলের চোখ উপরে উঠার অবস্থা! রাফিয়া সাধারণত প্রয়োজন ছাড়া রাতুল কে কল করে না তেমন একটা। কারণ, রাতুল একটু বেরসিক মানুষ বটে। কল রিসিভ করার পর রাফিয়া বললো,
“আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন? আমার সঙ্গে দেখা করা যাবে বিশ্ববিদ্যালয় যাওয়ার আগে?” রাতুল বললো, “কেনো, কী দরকার?”
রাফিয়া প্রত্যুত্তরে বললো “আপনি আসেন তার পর বলি?”
আমি যতটুকু জানি, রাফিয়া অনেক আগে থেকে রাতুল কে ভালোবাসে, যা কিনা এক তরফা। আমার মতে এই সম্পর্কগুলোতে ব্যক্তিকে (যিনি এক তরফা ভালোবাসেন) খুব কষ্টে কাটাতে হয়। তার কথা অনুযায়ী রাতুল দেখা করতে চলে গেল সেই জয়নাল উদ্যানে। রাফিয়া কে দেখে রাতুল একটু মুচকি মায়াবী একটা হাসি দিলো। রাফিয়ার পড়নে ছিল নীল শাড়ি, সে জানতো রাতুলের প্রিয় রঙ হচ্ছে নীল। “বাহ! তোকে তো বেশ চমৎকার লাগছে এই নীল শাড়ীতে; মনে হচ্ছে আমার স্বপ্নে আশা কোনো মায়ার জালে বেঁধে ফেলা নারী।” রাতুলের প্রশংসা রাফিয়ার প্রতি। রাফিয়া বললো,“
থ্যাংক ইউ,রাতুল!” তারপর বসে এক দীর্ঘ আলাপচারিতা শুরু হয় তাদের।
থ্যাংক ইউ,রাতুল!” তারপর বসে এক দীর্ঘ আলাপচারিতা শুরু হয় তাদের।
রাফিয়া যে রাতুল কে আজ দীর্ঘ ৩ বছরের জমে থাকা কথা বলে দিতে চায় সেটি আমি আগে থেকে জানতাম। কারণ রাফিয়া আমার খুব ভালো একজন বন্ধু, আমাকে কথাগুলো আগেই জানিয়ে ছিল। রাফিয়া রাতুলকে বললো, “শুন, আমি আজ একটা বিষয়ে সব কিছু বলে দিতে এসেছি তা হলো আমি তোকে মন দিয়ে ফেলেছি রাতুল!” রাতুল মুচকি হাসি দিয়ে বললো, “আমার এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য নেই, কারণ তোকে আমি এমন ভাবে কখনো কল্পনা করিনি; আমি চাই না এই সম্পর্কটা বন্ধুত্ব ছাড়া অন্য কিছুতে পরিণত হোক।”
রাফিয়া তখন আর এক মুহূর্ত বিলম্ব না করে স্থান ত্যাগ করে। তখন সকাল ১০ টা, সেদিন আর বিশ্ববিদ্যালয় যাওয়া হলো না রাতুলের। সেদিন রাফিয়া বাসায় এসে চিন্তা করে সে এই দেশে আর থাকবে না, কারণ এখানে থাকলে তার রাতুল কে ছাড়া এক মুহূর্ত থাকা সম্ভব না। আমি, সাদ, আসলিহান সবাই রাফিয়া কে বোঝানোর চেষ্টা করলাম, কিন্তু ফলপ্রসূ তেমন সাড়া পাওয়া গেলো না। রাতুল অনেক চেষ্টা করলো রাফিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করার কিন্তু সম্ভব হয়ে উঠলো না।
রাতুল এক সময় গিয়ে বুঝতে পারলো তার কাজটি একদম অন্যায় হয়েছে রাফিয়ার প্রতি। কিন্তু রাফিয়া তত দিনে মস্তবড় চিকিৎসক। রাফিয়া ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী ছিল। রাতুলের জীবনের শেষ বেলাটা যে এতোটা বিষণ্ণ আর বেদনাদায়ক হবে সে নিজেও কোনদিন ভাবতে পারেনি।
আমাদের স্কুলের হাবীব স্যার একদিন বলেছিলেন যে, ”ব্যাটা, কখনো শুধু নিজের চিন্তা করে কোনো সিদ্ধান্ত নিও না, যাতে করে অন্যের ভালোবাসা তোমার জন্য অপমানিত হয়।” কথাটা যেনো রাতুলের জীবনে প্রয়োগ হয়ে গেলো। রাতুলের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন টা আর শেষ হয়ে উঠেনি কারণ রাফিয়া দেশ ত্যাগের ৬ মাস পর রাতুল মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে ঘর ত্যাগ করে। আমার মনে একটি প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে রাতুলের এই পরিণতি দেখে, “হে সৃষ্টিকর্তা মানুষের মন এবং ভাগ্য দুটিই তো তোমার দেওয়া তবে কেনো রাতুল যখন মন দিলো তখন ভাগ্যে রাখলে না?” এটায় কি প্রকৃতির নিরব প্রতিশোধ মানুষের ভালোবাসার প্রতি? রাতুলের পরিবার রাতুলকে রাস্তা থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য একটি স্বনামধন্য বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা চলমান থেকে যায় কিন্তু উন্নতি হয় না।
হঠাৎ রাফিয়া দেশে আসে রাতুলের এই অবস্থার কথা শুনে, আমাদের বন্ধু সাদ রাফিয়াকে বিষয়টি জানায় এবং দেশে আসতে বলেন। রাফিয়া প্রমাণ করলো ভালোবাসার মানুষের প্রতি কখনো অভিমান করে থাকা যায় না। রাতুলকে দেখতে রাফিয়া যখন আসে তখন রাতুল হঠাৎ এক মুচকি হাসি দিলো মনে হলো রাফিয়া যেনো অপরাধী এটির বিচার সে সৃষ্টিকর্তা কে দিচ্ছে। ভালোবাসা পবিত্র একটি বিষয়। মানুষ প্রকৃত ভালোবাসার মূল্য দিতে জানলে কখনো এতো খবর আসতো না জীবন ধ্বংসের। তাই তো বলা হয় ভালোবাসা মানুষ কে অন্ধ করে ফেলে। রাতুল যেনো নিরবে চোখের ভাষা দিয়ে বলছে,
“ পৃথিবীর সবথেকে কঠিন কাজ তোমাকে ভুলে যাওয়া।
যেটা আমি কখনোই,কোনোদিন পারিনি।
পৃথিবীর সবথেকে বড় ভুল তোমাকে ভালোবাসা।
কিন্তু এই একই ভুল আমি প্রতিটা জন্মেই কয়েকবার করে করতে চাই!”
রাতুল কে দেখার পর আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি তার চোখের ভাষা। একসময়, যে রাতুল রাফিয়াকে বন্ধুর চেয়ে বেশি কিছু ভাবতো না সে রাতুল আজ তার জন্য জীবন সন্ধিক্ষণে যুদ্ধ করছে বেঁচে থাকার জন্য। রাফিয়া রাতুল কে দেখতে গিয়ে খুব কান্না করেছিলো সেদিন। সেদিন রাতুল কে বেশ কিছু কথা রাফিয়া বলেছিলো, যার উত্তর রাতুল দিতে পারেনি কারণ সে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছে ইতোমধ্যে! রাফিয়া বলেছিলো খুব কাছে গিয়ে, “আমি তোমাকে ভালোবাসি, তুমি বুঝতে পেরেছো, এটাই তো অনেক। আমাকে তোমার ভালোবাসতে হবে না। তোমাকে পেতেই হবে এর জন্য তো ভালোবাসিনি, তোমাকে ভালোবাসায় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রাখতেই ভালোবেসেছি। মাঝে মাঝে মনে হয় তোমার মধ্যে এক অদ্ভুত অলৌকিক ক্ষমতা আছে। কখনো কাছে আসলে না, আমায় ছুঁয়ে দিলে না। কখনো কিছু না বলে, এক ফোঁটা ভালো না বেসে এমন এক মায়ার বন্ধনে বেঁধে রেখেছো আমাকে; তোমাকে কখনো ভুলতেই পারিনি। খুব জানতে ইচ্ছে করে। একটু ভালোবাসলে আমাকে খুব কি ক্ষতি হয়ে যেত তখন? আজ তো তবে তোমার এমন পরিণতি আমার দেখতে হয় না। আমার কামনা আল্লাহ কাছে তোমাকে এত কষ্টে দেখতে পারছি না আর আমি! তার চেয়ে আমাকে উনি নিয়ে যাক ইহকাল থেকে।”
“ পৃথিবীর সবথেকে কঠিন কাজ তোমাকে ভুলে যাওয়া।
যেটা আমি কখনোই,কোনোদিন পারিনি।
পৃথিবীর সবথেকে বড় ভুল তোমাকে ভালোবাসা।
কিন্তু এই একই ভুল আমি প্রতিটা জন্মেই কয়েকবার করে করতে চাই!”
রাতুল কে দেখার পর আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি তার চোখের ভাষা। একসময়, যে রাতুল রাফিয়াকে বন্ধুর চেয়ে বেশি কিছু ভাবতো না সে রাতুল আজ তার জন্য জীবন সন্ধিক্ষণে যুদ্ধ করছে বেঁচে থাকার জন্য। রাফিয়া রাতুল কে দেখতে গিয়ে খুব কান্না করেছিলো সেদিন। সেদিন রাতুল কে বেশ কিছু কথা রাফিয়া বলেছিলো, যার উত্তর রাতুল দিতে পারেনি কারণ সে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছে ইতোমধ্যে! রাফিয়া বলেছিলো খুব কাছে গিয়ে, “আমি তোমাকে ভালোবাসি, তুমি বুঝতে পেরেছো, এটাই তো অনেক। আমাকে তোমার ভালোবাসতে হবে না। তোমাকে পেতেই হবে এর জন্য তো ভালোবাসিনি, তোমাকে ভালোবাসায় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রাখতেই ভালোবেসেছি। মাঝে মাঝে মনে হয় তোমার মধ্যে এক অদ্ভুত অলৌকিক ক্ষমতা আছে। কখনো কাছে আসলে না, আমায় ছুঁয়ে দিলে না। কখনো কিছু না বলে, এক ফোঁটা ভালো না বেসে এমন এক মায়ার বন্ধনে বেঁধে রেখেছো আমাকে; তোমাকে কখনো ভুলতেই পারিনি। খুব জানতে ইচ্ছে করে। একটু ভালোবাসলে আমাকে খুব কি ক্ষতি হয়ে যেত তখন? আজ তো তবে তোমার এমন পরিণতি আমার দেখতে হয় না। আমার কামনা আল্লাহ কাছে তোমাকে এত কষ্টে দেখতে পারছি না আর আমি! তার চেয়ে আমাকে উনি নিয়ে যাক ইহকাল থেকে।”
আমি এই মুহূর্তের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বলছি, এমন প্রণয় আমি কোনোদিন দেখিনি। এতো চমৎকার এবং মনোমুগ্ধকর প্রণয় দেখলে যে কেউ বলবে এই প্রণয় পূর্ণতা না পেলে প্রণয় হবে অপমানিত।
লেখক
মো. লতিফুর রহমান খান (ফারদিন) টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ময়মনসিংহে স্নাতকে অধ্যয়নরত