আওরঙ্গজেব

মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব (ঔরঙ্গজেব) সম্পর্কে আমাদের ধারণা খুব একটা ভালো নয়। বিশেষ করে তাঁর ধর্মীয় গোঁড়ামির জন্য। তাঁকে নিয়ে কতরকমের গল্পকথা। তথ্যপ্রমাণের তোয়াক্কা না করে যুগযুগ ধরে শতসহস্র গল্প, উপকথা, ফিল্ম যে রচিত হয়েছে। আর এখন তো খোদ রাষ্ট্রই উঠে পড়ে লেগেছে ঔরঙ্গজেবকে রাবণের চেয়েও খারাপ আকারে চিহ্নিত করার জন্য।


অবাক লাগে যখন জানতে পারি, তথাকথিত সংগীতবিদ্বেষী ঔরঙ্গজেবের দরবারি গায়কদের কথা। তাঁরা প্রত্যেক বছর বাদশার জন্মদিন ও অভিষেক দিবসের স্মরণে নতুন নতুন ধ্রুপদ, খেয়াল বন্দিশ রচনা করতেন। সেইসব গান এখনও সুরক্ষিত আছে, কথা ও সুর দুই। টোড়ি ছিল ঔরঙ্গজেবের প্রিয় রাগ। সেই রাগে দুটি বন্দিশ :


১. _অকবর সুত জহাঁগীর তাকে শাহজহাঁ / তাকো সুত ঔরঙ্গজেব ভুয়ো হৈ ভুর পর_


২. _শাহ ঔরঙ্গজেব প্রীতম_


আশাবরী রাগেও সুন্দর একটি বন্দিশ আছে :


_প্যারে ঔরঙ্গজেব সো তুহি কৌন দৃষ্ট জোহী_


শ্রী রাগে বন্দিশ :

_শাহ ঔরঙ্গজেব বহুত ভলে হো_


সে আমলের বিখ্যাত সব গায়করা নানা উৎসব উপলক্ষ্যে খোদ ঔরঙ্গজেবকে এইসব গান শুনিয়ে খুশি করেছেন, পুরস্কার পেয়েছেন। ঔরঙ্গজেবের দরবারে প্রিয় গীতকবি ছিলেন আলম পণ্ডিত। তিনি আবার ব্রাহ্মণ বংশের। আরো একজন ছিলেন কবি কালিদাস ত্রিবেদী। তিনিও বাদশার খুব পছন্দের ছিলেন।


 মুশকিল হচ্ছে এইসব প্রসঙ্গ নিয়ে তো মারকাটারি হিন্দি সিনেমা হয় না। তাই লোকেও মানতে চায় না। তার ওপর আছে আবার কেন্দ্রীয় শিক্ষাদপ্তর। শিক্ষার্থীদের সিলেবাস নিয়ে গেণ্ডুয়া খেলতে যাদের জুড়ি নেই। অতএব ঔরঙ্গজেবকে ভিলেন ভাবতে আমরা বাধ্য।


[এসব তথ্য ক্ষিতিমোহন সেন-এর লেখা বিখ্যাত বই 'ভারতে হিন্দু মুসলমানের যুক্ত সাধনা'-য় সবিস্তারে লেখা আছে। যদিও সেখানেও সমস্যা, ক্ষিতিমোহন সেন বিরাট পণ্ডিত হতে পারেন, রবীন্দ্রনাথের একান্ত সুহৃদ হতে পারেন, কিন্তু তিনি যে আবার অর্মত্য সেন-এর দাদু। অমর্ত্য সেন-কে তো আবার দিল্লীশ্বর ও তাঁর অনুগামীরা সহ্য করতে পারেন না। কি জ্বালা!]

নবীনতর পূর্বতন